নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাঠানটুলী, মোগলটুলী, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা সহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া বেশকটি গ্রুপ, শাখা-উপশাখা ও নামধারী কয়েকজন যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতা।
এই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েকমাস ধরেই চলছিল ক্ষমতা প্রদর্শনে একের পর এক মারামারি, সংঘাত, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও হত্যাকান্ড!

হত্যা পরবর্তী মামলা, পুলিশী অভিযান কিংবা গ্রেপ্তারেও থেমে থাকেনি সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ নিয়ে যদিও দুষছিলেন একপক্ষ অন্যপক্ষকে তবে নিস্তার পাননি অত্র এলাকার জনসাধারণ।
এবিষয়ে পাঠানটুলী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের ১২ ই নভেম্বর আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকায় কিশোর গ্যায়ের সন্ত্রাসী হামলায় যুুবলীগ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রকাশ মারুফ চৌধুরী নিহত হয় এবং কাকতালীয় ভাবে মাঝখানে (ডিসেম্বর) একমাস অন্তর অর্থাৎ ১২ ই জানুয়ারি চসিক নির্বাচনের গণসংযোগ চলাকালে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের উপর সন্ত্রাসী হামলার সময় ঘটে গেল আরও একটি হত্যাকান্ড (বাবুল সরদার)।
পাঠানটুলী এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুবলীগ কর্মী মিন্টু কে যারা পিটিয়ে হত্যা করে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তারা আবারও প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করে। একজন তরুণকে হত্যা করার একসপ্তাহের মধ্যেই যদি ঐ চক্রটি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অট্টহাসিতে উল্লাস প্রকাশ করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে পারে, তাহলে চিন্তা করে দেখুন তাদের ক্ষমতার উৎস ও বিস্তার কোন পর্যায়ের? এই এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদমুখী নাহয়ে বরং তাদের কতটা সমীহ করতে বাধ্য সেটা বিচার বিবেচনা করলে বুঝা যায়। মূলত এভাবেই সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে এ এলাকায়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের স্ত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলায় আব্দুল কাদের সহ তার কয়েকজন অনুসারীকে আসামী করে মূলত নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে কৌশলগত ভাবে অপরপক্ষ এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১২ ই জানুয়ারি মগপুকুড় পাড় এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগটি ছিল পূর্ব নির্ধারিত এবং স্থানীয় ডবলমুরিং থানাকেও উক্ত গণসংযোগের বিষয়টি আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর সেদিন গণসংযোগ করছিলেন মতিয়ার পুলে। হঠাৎ করে তিনি কেন গণসংযোগের স্থান পরিবর্তন করে মগপুকুর পাড় এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল টিপুর বাসায় অবস্থান করেন? তাও আবার একঘণ্টার মতো টিপুর বাসায় বাহাদুর অবস্থান করছিলেন দাবি করে নুসরাত জাহান বলেন, গণসংযোগ করতে করতে আমার স্বামী টিপুর বাসার কাছাকাছি পৌঁছাতেই নজরুল ইসলাম বাহাদুর সেই বাসা থেকে বের হন। তিনি বের হয়েই হামলার নির্দেশ দিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা। আর ওই সংঘাতের একপর্যায়ে অস্ত্রধারী কোনো সন্ত্রাসীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আজগর আলী বাবুল (সরদার)।
সন্ত্রাসী হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে আবদুল কাদের প্রশাসনকে ফোন করে সাহায্য চান এবং একটি ভবনে ঢুকে গিয়ে তিনি ও তার সাথে থাকা কয়েকজন তাদের জীবন রক্ষা করেন।
মোস্তাফা কামাল টিপুকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী উল্লেখ করে ঘটনার দিন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর ঘরে নজরুল ইসলাম বাহাদুর এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি পরিকল্পনার একটি অংশ বলেও দাবি করেন তিনি। কদমতলী এলাকার হারুন মার্ডার, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল খন্দকার, আগ্রাবাদে যুবলীগ কর্মী মারুফ চৌধুরী মিন্টু হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা কামাল টিপু প্রকাশ কসাই টিপু জড়িত ছিল তা প্রশাসন সহ সকল মহল অবহিত। পরপর এতোগুলো হত্যাকাণ্ডে যার সংশ্লিষ্টতা, বাবুল হত্যাকাণ্ডের আগ মুহূর্তে তার বাসায় কী ছক আঁকছিলেন নজরুল ইসলাম বাহাদুর এই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আগ্রাবাদের কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক মোস্তফা কামাল টিপু মূলত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাহাদুর চসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগ এর মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন টিপু।
কারও সাথে মতের অমিল দেখা দিলেই টিপু যে কারও উপর হামলা সহ কথার আগে গুলি ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি, আগ্রাবাদ গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে ছিনতাই, অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা।
সর্বশেষ জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রকাশ মারুফ চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোস্তাফা কামাল টিপু। পাঠানটুলি ও আগ্রাবাদ এলাকায় অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে নিজস্ব আস্তানা বানিয়েছেন।
টিপু নিজেকে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি, আগ্রাবাদ গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে ছিনতাই, অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেকজন বলেন, বাবা মাহাবু প্রকাশ ইয়াবা মাহাবু, রমজান, রাব্বি, ফয়সাল খান, বিষু বড়ুয়া, জিয়া, নুরনবী, সাঈদ, ইকবাল, শাহেদ, বিপ্লব, সাইফুল সহ কয়েকজন উঠতি বয়সী মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে টিপু গড়ে তুলেছেন একটি বেপরোয়া গ্যাং। সেই কিশোর ও তরুণদের ভয়ে সাধারণ এলাকার মানুষ হয়ে পড়েছে জিম্মি।

বাবুল সংঘর্ষে মারা গেছে এই অভিযোগটিও সত্য নয়। বরং পরিকল্পিতভাবে বাবুলকে হত্যা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতেই হত্যার দায় কাদেরের ঘাড়ে চাপিয়ে অত্যন্ত সুচতুরভাবে ওই সংঘর্ষ বাধানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

Leave a Reply