নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় একেরপর এক ঘটনায় অশান্ত, জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার জনসাধারণ। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও পড়েছে বিপাকে। বিগত কয়েকমাস আগে আগ্রাবাদ গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা সহ যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগও রয়েছে। এসকল অভিযোগের নেপথ্যে ঘুরেফিরে উঠে আসছে মোস্তাফা কামাল টিপু নামের একজন কিশোর গ্যাং লিডারের নাম। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে ডবলমুরিং থানা সহ সিএমপি’র বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, মারামারি, অপহরণ, টেন্ডারবাজি, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, টিপুর রয়েছে একটি বেপরোয়া গ্যাং, এতে তার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে সকল অপকর্মে ইয়াবা মাহাবু প্রকাশ বাবা মাহাবু, রমজান, রাব্বি, ফয়সাল খান, বিষু বড়ুয়া, জিয়া, নুরনবী, নিজাম খান সহ আরও কয়েকজন সহচর। শক্তিশালী এই সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ হয়ে পড়েছে জিম্মি।

সদ্য সমাপ্ত হওয়া চ.সি.ক নির্বাচনের পরদিন ২৮ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ভোট নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বংশাল পাড়ায় শাহ আলম নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেন মোস্তাফা কামাল টিপুর অনুসারী নিজাম খান।

এ ব্যাপারে ডবলমুরিং থানার ওসি মোঃ মহসিন জানান, নিজাম খাঁন ও শাহ আলম স্থানীয় দুজন ব্যক্তি। সিটি করপোরেশনের ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শাহ আলম জানিয়েছেন ভোটের আগের দিন নিজাম তাকে ‍হুমকি দিয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর গত ২৮শে জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ১০ টার দিকে বংশালপাড়া এলাকায় নিজাম খান হত্যার উদ্দেশে শাহ আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাহআলম প্রাণে বেঁচে যান। গুলির শব্দ শুনি আমরাও।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গুলির শব্দে এলাকার মানুষ যখন বেরিয়ে আসে তখন নিজাম পালিয়ে যায়। আমরা তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছি। নিজামকে গ্রেফতার করতে পারলে সে কেন অস্ত্রের কারখানা করেছে, কার কাছে বিক্রি করেছে, ক্রেতা কারা ছিল- এসব বিষয় জানতে পারব এবং এর নেপথ্যে কারা আছেন তাও বেরিয়ে আসবে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে নিজাম তার বাসার ছাদে অস্থায়ী কারখানাটি গড়ে তুলেছিলেন।

আগ্রাবাদের কিশোর গ্যাং লিডার মোস্তফা কামাল টিপু মূলত স্থানীয় নজরুল ইসলাম বাহাদুরের হয়ে কাজ করেন। বাহাদুর চসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেন টিপু। কারও সাথে মতের অমিল দেখা দিলেই টিপু যে কারও উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় অনায়াসে। সর্বশেষ মারুফ চৌধুরী মিন্টু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এই মোস্তাফা কামাল টিপু।

চ.সি.ক নির্বাচনের কয়েকদিন আগে অর্থাৎ ১২ ই জানুয়ারি চসিক নির্বাচনের গণসংযোগ চলাকালে মগপুকুর পাড় এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের উপর সন্ত্রাসী হামলার সময় আজগর আলী বাবুল নামের একব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
পাঠানটুলী এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুবলীগ কর্মী মিন্টু কে যারা পিটিয়ে হত্যা করে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তারা আবারও প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করে। একজন তরুণকে হত্যা করার একসপ্তাহের মধ্যেই যদি ঐ চক্রটি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অট্টহাসিতে উল্লাস প্রকাশ করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে পারে, তবে তাদের দ্বারা আরও কয়েকটি হত্যা মূলত মামুলি ব্যপার।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের স্ত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলায় আব্দুল কাদের সহ তার কয়েকজন অনুসারীকে আসামী করে মূলত নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে কৌশলগত ভাবে অপরপক্ষ এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছেন।
টিপু নিজেকে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। টিপু ডবলমুরিং থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সংঘটিত হচ্ছে বলেও জানা যায়।

Leave a Reply