নগরীর ডবলমুরিং থানাধিন সিএসডি গুদাম সংলগ্ন আসকারাবাদে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জায়গা মোস্তাফা-হাকিম সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের নামে জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে৷ প্রকাশ্য দিবালোকে জনৈক মোঃ ইলিয়াছের গ্যারেজ ও মালামাল রাখার স্থানটি দখলের সময় ঘটনাস্থলে সাদা পোষাকে ডবলমুরিং থানার এস আই ওয়াহিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

জবর দখলের সংবাদ পেয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মোস্তাফা হাকিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গোল্টেন ইস্পাতের নিজস্ব ট্রাক (ভোলা-ট-১১-০০৭৩) ও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জমিতে লোহার সিট দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ করছে৷ এসময় নিজেকে তাহের সাহেবের লোক পরিচয় দেয়া ব্যক্তি জানান, স্যার বলেছেন তাই আমরা জায়গার দখল নিয়েছি৷ এসময় আদালতে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাইনবোর্ডটির পাশে “এই জায়গার মালিক আলহাজ্ব মোস্তাফা হাকিম সিমেন্ট ইন্টাঃ লিঃ” লিখা সাইনবোর্ড লাগাতে দেখা যায়৷ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাতিল বা স্থগীতের কোন কাগজ আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে সেই তাহের সাহেবের লোক তার কাছে কোনো কাগজ নেই বলে জানান। দখল নেয়া জমির ভেতর রাখা ট্রাক গুলো মোস্তাফা হাকিম গ্রুপের কিনা জানতে চাইলে ট্রাক গুলো তাদের নয় বলে তিনি স্বীকার করেন৷

এই বিষয়ে ভূক্তভোগী পক্ষের মোঃ ইমন নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে বলেন, জমির আমমোক্তার মোহাম্মদ ইলিয়াছ  মহামান্য হাইকোর্টে একটি সিভিল রুল নং-৪২৭  (এফএম) ২০১৯ এর প্রেক্ষিতে বিগত ১৯/০৫/২০১৯ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোমিনুর রহমান এবং বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশ গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নালিশী তপশীলোক্ত সম্পত্তি থেকে আমাদের দখলীয় এই সম্পত্তি হইতে নাবেদখল করিতে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রচার করেন। এর প্রেক্ষিতে বিগত ১০/০৮/২০১৯ ইং তারিখে সার্বিক বিষয়টি সিএমপি’র কমিশনারকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়৷ আবেদনে, মোস্তাফা-হাকিম গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার মোঃ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আইনের তোয়াক্কা না করে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ভংগ করে এই সম্পত্তি দখলের পায়তারা অভিযোগ জানানো হয়৷ সেই সাথে জায়গাটিতে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করতে ডবলমুরিং থানা পুলিশকে নির্দেশ দিতে পুলিশ কমিশনার বরাবরে আবেদন করা হয়৷ এতোদিন সব স্থিতি অবস্থায় ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো এক অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক দখল করা হয় বলে জানান তারা। নেওয়া হয়েছে দখলী জায়গাতে তাদের নিজস্ব ৪টি ট্রাক রয়েছে৷ এছাড়া দখলকারীরা জায়গাটি থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ইমন৷ এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার পুলিশ একটি কাগজ দেখিয়ে সেটাকে আদালতের আদেশ বলে দাবি করলেও সেই কাগজের কোন কপি ভুক্তভোগীদের দেয়নি৷ এবং কোন অভিযোগ নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন৷ এই বিষয়ে আগামীকাল আদালতে অভিযোগ দায়েরে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে৷

এই বিষয়ে ডবলমুরিং সিএমপি’র উপ কমিশনার (পশ্চিম) মোঃ ফারুক উল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই দখল সংক্রান্ত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান৷

Leave a Reply