রুবেল দাশ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে ৭ দিনের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। তবে লকডাউনে অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে কর্মজীবীরা। এর প্রেক্ষিতে আজ বুধবার থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। আবার গণপরিবহন চালু করলেও কোন মার্কেট কিংবা বিপনি বিতান খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনাভাইরাসে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। এছাড়া বুধবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৪১৪ জন। ফলে চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি আর লকডাউনে যেন এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা। গত ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করা হলেও তা মানেনি সাধারণ মানুষ। কারণ অফিস খোলা রাখায় বেশিরভাগ মানুষই বেরিয়েছেন জীবিকার তাগিদে। এছাড়া লকডাউন কার্যকরে প্রশাসনেরও ছিল না তেমন কোন তৎপরতা। উল্টো সড়কে কোন গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে অফিসগামী যাত্রীরা। এসময় অনেকে লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের গুণতে হয় দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া। ভক্সপপ এছাড়া যে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য এ লকডাউন তাও মানেননি সাধারণ মানুষ। গাদাগাদি করে গাড়িতে উঠেছেন, বাইরে বের হয়েছেন মাস্ক ছাড়া। গণপরিবহনগুলোতেও মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়া গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন,আমি বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় আসা পর্যন্ত সরাকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও আমার কাছ থেকে বার্তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেই কোন স্বস্থ্যবিধি। এভাবে চল্লে আমরা সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হব। এর একটা ব্যাবস্থা নেওয়া উচিৎ সরকারের।

আবার আজ বুধবার থেকে গণপরিবহন চালু করে দিলেও খোলা হয়নি কোন মার্কেট। এতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষুব্ধ। গত ঈদেও মার্কেট বন্ধ থাকায় বড় ধরণের লোকসানে পড়তে হয়েছিল তাদের। এবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হলে দোকান বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। ভক্সপপ এদিকে, এত কিছুর ভিতরে বন্ধ নেই করোনা সংক্রমন। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী। মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙ্গছে প্রতিদিন। হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে নেই শয্যা। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এবং হাসপাতালগুলো কি ব্যবস্থা নেয় এবং কতটুকু নিয়ন্ত্রন করতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

এশিয়ান নিউজ/শই

Leave a Reply