সারোয়ার সাহিন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ৩৩,৯০৪ বর্গ কি.মি এর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ যার  জনসংখ্যা  ২,কোটি ৯১ লক্ষ ৪৫ হাজারের ও বেশি।অবাক করার বিষয় এই বিশাল জনসংখ্যার চট্টগ্রামে রোগিদের জন্য আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র ৩৯ টি যার মধ্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১০টি, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৬টি আইসিইউ রয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটি এখন করোনা রোগিতে পূর্ন ।

দেখা গেছে,মুমূর্ষু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনরা।কোনো হাসপাতালে একটা (আইসিইউ)  শয্যা মিলছে না।অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেডে রোগীর ভিড় বেশি।কিন্তু সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড ফাঁকা না থাকায় রোগীর জীবন বাঁচাতে নিরূপায় হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনরা।এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর জন্য একটা আইসিইউ বেড যেন ‘সোনার হরিণ’।

এদিকে ছোটাছুটি করে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা গেলেও গুনতে হচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। হাসপাতালভেদে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। যেকোনো মুহূর্তে লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে— এই মর্মে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ফোকাল পারসন ডা. মো. আব্দুর রব বলেন,সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কার রয়েছে, যে পরিমান করোনা রোগী বাড়ছে সে পরিমান আইসিইউ ও আইসোলেশন সেন্টারের বেড খালি নেই। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে হাসপাতাল গুলোতে ব্যস্ততম সময় পার করছেন ডাক্তার নার্স সহ কর্মচারীরা , আইসিউ বেডের সংকটে তাদের ও ভুগতে হচ্ছে জানিয়ে তারা বলেন, আইসোলেশন সেন্টার ও করোনা রোগীর বেড সীমিত থাকায় মেডিকেলে ভর্তি হতে আসা করোনা রোগীদের আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে পারছিনা। এক পর্যায়ে তাদের আমরা অন্যকোন হাসপাতালে পাটিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

এ নিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত আইসিইউ বেডের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোগি ও স্বজনরা।

 

এশিয়ান নিউজ/শই

Leave a Reply