ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন জান্নাতুল মৌমিতা মুন্নী। তবে পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারনে পড়াশোনা চালিয়ে যেথে পারছেনা দেশের মেধাবী এই কন্যা। জান্নাতুল পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের বাকী বিল্লাহ এবং রওশন আরা খাতুনের মেয়ে। তার বাবা পেশায় ভ্যানচালক। বাবা-মায়ের ৪ সন্তানের মধ্যে মুন্নী সবার বড়।

মুন্নী জানান, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৩১১০ মেধাক্রমে তিনি দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৬৯.৭৫ নম্বর। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

শিক্ষা জীবনজুড়েই আর্থিক অনটন মুন্নীর নিত্যসঙ্গী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মুন্নীর বাবা। তিনি ভ্যান চালিয়ে কোনমতে সংসার চালান। পারিবারিক সম্পদ বলতে বাড়ির ২ কাঠা জমি। কাঁচা মেঝের ছোট একটি টিনের ঘর রয়েছে। সে ঘরেই তাদের বসবাস।

মুন্নীর বাবা বাকী বিল্লাহ জানান, ব্র্যাকের স্থানীয় শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যান কেনন। এখন সেই ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনরকমে পরিবারের ৬ জনের আহার জোটে।

তিনি জানান, সংসার চালানোই দায়, তার উপর মেয়ের মেডিকেলের লেখাপড়ার খরচ চালানো তার কাছে অসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু বাবা হিসেবে তিনি চান তার মেয়ে ডাক্তার হোক। তাহলে তার শরীরের ঘাম সার্থক হবে বলে জানান।

পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, মুন্নী অত্যন্ত মেধাবী। মুন্নী পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করার পর পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

মুন্নী বলেন, স্কুল-কলেজে পড়াশোনার সময় টাকার অভাবে একসাথে প্রয়োজনীয় সব বই কিনতে পারতাম না। একটা একটা করে বই কিনতাম। মন চাইলেও একটা ভালো পোশাক কিনতে পারতাম না। কারণ গরিবের ঘরে জন্ম, তাই মা-বাবা খুশি হয়ে যা কিনে দিতেন তাতেই খুশি থাকতাম। স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করার সময় তাদের এলাকার জনৈক নাছির সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মুন্নী।

তিনি জানান, পাবনা শহরে এইচএসসি পড়াশোনর সময় ছাত্রী নিবাসের মালিক ইমরান হোসেন তার কাছ থেকে ২ বছর রুমের কোনো ভাড়াও নেননি।

তিনি আরও বলেন, শত বাধা সত্ত্বেও ছোট থেকেই চিকিৎসক হওয়ার আশা লালন করেছি। এখন সে আশা-স্বপ্নপূরণ আর্থিক কারণে বাধার মুখে। এখন চিন্তা মেডিকেলে পড়ার খরচ বাবা কীভাবে যোগাবেন।

পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও বিগত ৩৬ বছরে এই বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এবারে দরিদ্র এই মেধাবী মেয়ে মুন্নী সেই সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। তিনি আমাদের মুখ উজ্জল করেছেন।

তিনি আরো জানান, সমাজের বিত্তবান হৃদয়বান মানুষ কিছু কিছু করে সহযোগিতার হাত বাড়ালে মুন্নীর স্বপ্ন সার্থক হবে।

Leave a Reply