বাকলিয়া মৌজায় ১ দশমিক ৫৫ শতক জায়গার একসনা লিজ নিলেও বিগত ২৩ বছরেও ইজারাচুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করেননি ইজারাদার গণ। ১৯৯৭ সালে পটিয়ার সাংসদ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও ক্রীড়া সংগঠক দিদারুল আলম চৌধুরীসহ ৪ জন ব্যক্তি বাকলিয়া থানাধীন সরকারি জায়গাটি ইজারা নেন।
একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল গড়ে তোলার শর্তে বাকলিয়া এমজেএমএন কলেজের পাশে খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ৬৭৪০, ৬৭৪১, ৬৬৮৪ দাগের মোট ১ দশমিক ৫৫ একর জায়গা ক্রীড়া সংগঠক দিদারুল আলম চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী (বর্তমানে সরকার দলীয় হুইপ), মহিউদ্দিন আহমদ এবং কামাল আহমদকে (এখন বেঁচে নেই) একসনা লিজ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
সম্প্রতি টিনের ঘেরা দিয়ে উক্ত জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ করেন লিজগ্রহীতারা। গতকাল রোববার থেকে একটি বুলডোজার দিয়ে জায়গাটি সংস্কার করতে গেলে স্থানীয় আরেক পক্ষ দাবি করেন লিজের জায়গার ভিতর তাদের অন্তত ৬০ শতক জমি রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এম মাহমুদ রনি জানান, বাকলিয়া মৌজায় আরএস জরিপের ৩৪০৫ নম্বর খতিয়ানের ২১২১৮/২১২১৯/২১২২০/২১২২২ দাগ এবং পিএস জরিপের ৫৫৫৬ ও বিএস জরিপের ৬৬৮৪ দাগের সমূদয় জায়গার মালিক এবং দখলদার হলেন আছদ আলী সওদাগর গং এবং আনোয়ারুল আজিম গং।
প্রতিপক্ষ দিদারুল আলম চৌধুরীসহ অন্য তিনজন পাশের দাগের সরকারি খাস জমি লিজ নিলেও তারা আমাদের মৌরশী অন্তত ৬০ শতক জমি বেশি দখলে নিয়েছেন।

এ নিয়ে সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। লিজগ্রহীতাদের প্রতিপক্ষের দাবি, আরএস এবং পিএস রেকর্ডমূলে জায়গাটি তাদের মৌরশি সম্পত্তি। এটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জায়গাটিতে অবস্থান নেয় পুলিশ সদস্যরা।
পরে দুপুর দুইটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন রায়ের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তারা গিয়ে ওই জায়গা থেকে ‘দখলদার’দের সরিয়ে দিয়ে সতর্কীকরণ নোটিশ লাগিয়ে দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন রায় সোমবার রাতে বলেন, ‘এটা তো সরকারি খাস জায়গা। ‘আগামীকাল সরেজমিন ঘটনাস্থলে যাব। কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দেব।’
দীর্ঘ ২৩ বছরেও ইজারাচুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি কেন জানতে চাইলে দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘জায়গাটি একসনা লিজ নিয়েছি বটে। ইজারা চুক্তি মোতাবেক কিছু জায়গায় সেমিপাকা ঘর করেছি। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে স্কুল গড়ে তোলা যায়নি। একটি চক্র ভুয়া দলিল বানিয়ে সরকারি জায়গার মালিকানা দাবি করছে।’ তবে লিজগ্রহীতা হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে সোমবার রাতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন জানান, ১ দশমিক ৫৫ শতক জায়গাটি দিদারুল আলম চৌধুরীসহ অন্য তিনজন সরকার থেকে একসনা লিজ নিয়েছেন বটে। কিন্তু এখন কেউই এ জায়গার মালিক নন৷’
দিদারুল আলম চৌধুরীর দাবি ১৯৯৭ সালে একসনা লিজ নিলেও সেটি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে বলেছে ভূমি প্রশাসন।ইতিমধ্যে ৪২ লাখ টাকা খরচ করে জায়গায় মাটিভরাট এবং টিন দিয়ে ঘেরা দেন তারা।

দিদারুল আলম চৌধুরীর অভিযোগ, রোববার রাতে তাদের জায়গায় ছোট দুটি টিনের টং ঘর স্থাপন করে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গেলে তার উপর হামলা চালানের চেষ্টা করা হয় এবং তার গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

তবে দিদারুল আলম চৌধুরীর উপর হামলার চেষ্টা এবং তার গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান এম মাহমুদ রনি। রনি বলেন, বাকলিয়া মৌজায় আরএস জরিপের ৩৪০৫ নম্বর খতিয়ানের ২১২১৮/২১২১৯/২১২২০/২১২২২ দাগ এবং পিএস জরিপের ৫৫৫৬ ও বিএস জরিপের ৬৬৮৪ দাগের সমূদয় জায়গার মালিক এবং দখলদার হলেন আছদ আলী সওদাগর গং এবং আনোয়ারুল আজিম গং। প্রতিপক্ষ দিদারুল আলম চৌধুরীসহ অন্য তিনজন পাশের দাগের সরকারি খাস জমি লিজ নিলেও তারা আমাদের মৌরশী অন্তত ৬০ শতক জমি বেশি দখলে নিয়েছেন।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিরোধীয় জায়গায় দুই পক্ষের লোকজন ছাড়াও একদল পুলিশ সেখানে অবস্থান নেন। এছাড়া সেখানে দিদারুল আলম চৌধুরী এবং প্রতিপক্ষ মৌরশী সম্পত্তির দাবিদার এম মাহমুদ রনিও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply